একীভূতকরণ আলোচনা শুরু করতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জাপানের দুই অটো জায়ান্ট হোন্ডা ও নিশান, যাকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজারে চীনের সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতায় পুরনো ধাঁচের গাড়ি প্রস্তুতকারকদের ব্যবসায়িক মডেল পুনর্বিবেচনার বড় উদাহরণ এটি। খবর রয়টার্স।
টোকিওতে যৌথ মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি দুটি গতকাল প্রারম্ভিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যা ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে।
সম্ভাব্য একীভূতকরণের মাধ্যমে টয়োটা ও ফক্সওয়াগনের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অটো কোম্পানির আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে। যাদের সম্মিলিত বিক্রি ও পরিচালন মুনাফার লক্ষ্য যথাক্রমে ৩০ লাখ কোটি ইয়েন বা ১৯ হাজার ১০০ কোটি ডলার ও ৩ লাখ কোটি ইয়েন।
একটি হোল্ডিং কোম্পানির অধীনে নতুন সংস্থাটি গঠন হবে এবং ২০২৬ সালের আগস্টের মধ্যে এটি তালিকাভুক্ত হবে। হোল্ডিং কোম্পানির অধিকাংশ পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা থাকবে হোন্ডার কাছে।
নিশানের ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার মালিক মিৎসুবিশি, তারাও এ গ্রুপের একটি অংশ হবে। অবশ্য নিশানের সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ফরাসি গাড়ি প্রস্তুতকারক রেনোঁ এখনো সম্ভাব্য অংশীদারত্ব পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে।
নতুন এ জোট দেশীয় বাজারে টয়োটার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এবং বিদেশে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে চীনের বিওয়াইডি ও গিলি।
গাড়ি শিল্পের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একীভূত হলে কোম্পানি দুটির উৎপাদন খরচ কমবে। তাদের গবেষণা ও প্রযুক্তি বিকাশের সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে। তবে একীভূতকরণের ফলে কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা রয়েছে, যা জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিশান ও হোন্ডা এর আগেও একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানিয়েছিল। মার্চে তারা যৌথভাবে ইভির সফটওয়্যার বিকাশের ঘোষণা দেয়। বর্তমানে দুই জায়ান্ট ২০৩০ সাল নাগাদ একটি যৌথ ইভি আনতে কাজ করছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর গাড়ি শিল্পে সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে আলোচনার গতি আরো বাড়িয়েছে নিশান ও হোন্ডা।
গত আগস্টে কোম্পানি দুটি ঘোষণা করেছিল, তারা এ দশকের শেষ নাগাদ যৌথ ইভি প্লাটফর্ম চালু করবে। এছাড়া এ একীভূতকরণ উভয় প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি করবে।
জাপান সরকার ২০২০ সালে নিশান ও হোন্ডাকে একীভূতকরণের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই সময় আশঙ্কা ছিল, জাপানি গাড়ি নির্মাতারা একা চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে ইভি ও সফটওয়্যার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না। প্রতিযোগিতা করতে হলে দেশীয় গাড়ি নির্মাতাদের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন।